বায়োপসি (Biopsy) কী? কেন করা হয়, কীভাবে করা হয়, রিপোর্ট ও সম্পূর্ণ রোগী নির্দেশিকা

⏱️ পড়তে সময় লাগবে: আনুমানিক ১৭–১৮ মিনিট

এই রোগী নির্দেশিকায় বায়োপসি কী, কেন ও কখন করা হয়, কারা বায়োপসি করাবেন, কীভাবে করা হয়, পরীক্ষার আগে ও পরে কী করণীয়, বায়োপসির বিভিন্ন ধরন, রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন, রিপোর্টে ক্যান্সার ধরা পড়লে বা না পড়লে পরবর্তী করণীয় কী এবং ক্যান্সার নির্ণয়ে বায়োপসির ভূমিকা—এসব বিষয় আন্তর্জাতিক চিকিৎসা নির্দেশিকার আলোকে সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সংক্ষেপে জানুন:

বায়োপসি কী?

বায়োপসি (Biopsy) হলো এমন একটি চিকিৎসা পরীক্ষা, যেখানে শরীরের কোনো অস্বাভাবিক অংশ থেকে অল্প পরিমাণ টিস্যু বা কোষ সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় টিস্যুটি স্বাভাবিক, প্রদাহজনিত, সংক্রমিত, নিরীহ (Benign) নাকি ক্যান্সার (Malignant)।

ক্যান্সার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় বায়োপসিই নিশ্চিত রোগ নির্ণয়ের প্রধান ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। শুধু এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই দেখে অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার নিশ্চিত করা যায় না। এসব পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে রোগের প্রকৃতি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োপসি করা হয়।

বায়োপসি শুধু ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য নয়, টিউমারের ধরন ও গ্রেড নির্ধারণ, প্রয়োজনে Biomarker বা Molecular Test করার সুযোগ তৈরি এবং পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোগের স্টেজ নির্ধারণে বায়োপসির ফলাফল অন্যান্য পরীক্ষা ও ইমেজিংয়ের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

বায়োপসি কেন করা হয়?

কখন বায়োপসি প্রয়োজন হতে পারে?

শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোন ধরনের বায়োপসি করা হয়?

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতে অস্বাভাবিক গাঁট, ক্ষত বা অন্য কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে বায়োপসি করা হতে পারে। কোন স্থান থেকে এবং কোন পদ্ধতিতে বায়োপসি করা হবে, তা নির্ভর করে অস্বাভাবিক অংশটির অবস্থান, আকার, গভীরতা এবং রোগের সম্ভাব্য ধরন-এর ওপর।

স্তন (Breast): স্তনে গাঁট বা সন্দেহজনক পরিবর্তন থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী Core Needle Biopsy, FNAC বা Vacuum-Assisted Biopsy করা হতে পারে।

ফুসফুস (Lung): ফুসফুসে কোনো সন্দেহজনক গাঁট বা ক্ষত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী Bronchoscopy/EBUS-guided Biopsy অথবা CT-guided Biopsy-এর মাধ্যমে নমুনা নেওয়া হতে পারে।

মস্তিষ্ক (Brain): মস্তিষ্কে কোনো সন্দেহজনক টিউমার বা ক্ষত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী Stereotactic Biopsy করা হতে পারে।

থাইরয়েড (Thyroid): থাইরয়েডে নডিউল বা সন্দেহজনক পরিবর্তন থাকলে সাধারণত Fine-Needle Aspiration (FNA/FNAC) করে নমুনা নেওয়া হয়।

হাড় (Bone): হাড়ে সন্দেহজনক ক্ষত বা টিউমার থাকলে Core বা Incisional Biopsy-এর মাধ্যমে টিস্যুর নমুনা নেওয়া হতে পারে।

বোন ম্যারো (Bone Marrow): রক্ত বা বোন ম্যারোর রোগ নির্ণয়ের জন্য Bone Marrow Aspiration-এর সঙ্গে Trephine Biopsy করা হতে পারে।

লিম্ফ নোড (Lymph Node): লিম্ফ নোড বড় হয়ে গেলে বা ক্যান্সারের সন্দেহ থাকলে FNA, Core Biopsy অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী Excisional Biopsy করা হতে পারে।

ত্বক (Skin): ত্বকের সন্দেহজনক দাগ, গুটি বা ক্ষতের ক্ষেত্রে Punch, Shave অথবা Excisional Biopsy করা হতে পারে।

লিভার (Liver): লিভারে সন্দেহজনক ক্ষত বা টিউমার থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী Percutaneous বা Image-Guided Biopsy করা হতে পারে।

কিডনি (Kidney): কিডনির কোনো সন্দেহজনক ক্ষত বা নির্দিষ্ট রোগের ক্ষেত্রে Image-Guided বা Percutaneous Biopsy করা হতে পারে।

প্রোস্টেট (Prostate): প্রোস্টেট ক্যান্সারের সন্দেহ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী Transperineal বা Transrectal Prostate Biopsy করা হতে পারে।

জরায়ু ও জরায়ুমুখ (Uterus/Cervix): জরায়ু বা জরায়ুমুখে সন্দেহজনক পরিবর্তন থাকলে Endometrial Biopsy, Cervical Biopsy বা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য পদ্ধতিতে টিস্যুর নমুনা নেওয়া হতে পারে।

পাকস্থলী ও অন্ত্র (Stomach/Intestine): পাকস্থলী বা অন্ত্রের ভেতরে কোনো সন্দেহজনক ক্ষত দেখা গেলে Endoscopy বা Colonoscopy-এর সময় Biopsy নেওয়া হতে পারে।

চোখ ও চোখের পাতা (Eye/Eyelid): চোখ বা চোখের পাতায় সন্দেহজনক গুটি, ক্ষত বা অন্য কোনো পরিবর্তন থাকলে রোগের ধরন অনুযায়ী Lesion-directed Biopsy করা হতে পারে।

মুখ ও গলা (Oral Cavity/Throat): মুখ, জিহ্বা, গলা বা মুখগহ্বরের কোনো সন্দেহজনক ক্ষত থাকলে Incisional বা Excisional Biopsy করা হতে পারে।

বায়োপসি কীভাবে করা হয়?

বায়োপসি কীভাবে করা হবে তা নির্ভর করে শরীরের কোন অংশ থেকে নমুনা নেওয়া হবে, অস্বাভাবিক অংশটি কত বড় বা কতটা গভীরে রয়েছে এবং কোন ধরনের বায়োপসি প্রয়োজন তার ওপর। অনেক বায়োপসি স্থানীয় অবশ করার ওষুধ (Local Anesthesia) দিয়ে করা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সেডেশন (Sedation) বা সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়া (General Anesthesia) প্রয়োজন হতে পারে।

বায়োপসি সাধারণত যেভাবে করা হয়

  1. প্রথমে বায়োপসি করার স্থান পরিষ্কার করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় অবশ করার ওষুধ দেওয়া হয়।
  2. তারপর নির্ধারিত পদ্ধতিতে সূঁচ, এন্ডোস্কোপ বা ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অংশ থেকে প্রয়োজনীয় কোষ বা টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
  3. শরীরের গভীরে থাকা অস্বাভাবিক অংশ থেকে নমুনা নেওয়ার ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা CT স্ক্যানের সাহায্যে সূঁচটি সঠিক স্থানে পৌঁছানো হতে পারে।
  4. নমুনা সংগ্রহের পর প্রয়োজনে বায়োপসির স্থান পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ বা ড্রেসিং করা হয়। ছোট অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে সেলাইও লাগতে পারে।

বায়োপসির নমুনা পরীক্ষার জন্য কীভাবে পাঠানো হয়?

সংগ্রহ করা টিস্যু বা কোষের নমুনা উপযুক্তভাবে সংরক্ষণ করে প্যাথলজি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। সেখানে প্যাথলজিস্ট নমুনাটি পরীক্ষা করে রোগের ধরন সম্পর্কে রিপোর্ট তৈরি করেন। প্রয়োজন হলে Immunohistochemistry (IHC), Biomarker, Molecular Test বা অন্যান্য বিশেষ পরীক্ষা করা হতে পারে।

বায়োপসি করতে কত সময় লাগে?

বায়োপসি করতে কত সময় লাগবে তা বায়োপসির ধরন, শরীরের কোন অংশ থেকে নমুনা নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় অবশ করার ওষুধ, সেডেশন বা অ্যানেস্থেশিয়ার প্রয়োজন আছে কি না—এসবের ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে, অনেক নিডল বায়োপসি করতে প্রায় ১০–৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে। ত্বকের কিছু বায়োপসি সাধারণত প্রায় ১৫–২০ মিনিটে করা যায়। অন্যদিকে ইনসিশনাল, এক্সসিশনাল বা বড় সার্জিক্যাল বায়োপসিতে প্রায় ৪৫–৬০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

এন্ডোস্কোপিক বা ইমেজ-গাইডেড বায়োপসির ক্ষেত্রে প্রস্তুতি, প্রক্রিয়ার ধরন এবং প্রয়োজনে সেডেশনের কারণে মোট সময় আরও বেশি হতে পারে। বায়োপসির পর কিছু সময় পর্যবেক্ষণেও থাকতে হতে পারে।

তাই উপরের সময়গুলো আনুমানিক। আপনার ক্ষেত্রে বায়োপসি করতে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কত সময় লাগতে পারে, তা বায়োপসি করার আগে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল থেকে জেনে নেওয়া ভালো।

বায়োপসির আগে কী প্রস্তুতি নেবেন?

বায়োপসি পরীক্ষা কোথায় করাবেন?

সব ধরনের বায়োপসি একই জায়গায় করা যায় না। কিছু নিডল বায়োপসি আল্ট্রাসনোগ্রাম বা CT-এর সাহায্যে করা হয়, আবার কিছু বায়োপসি এন্ডোস্কোপি, ব্রঙ্কোস্কোপি বা ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে করতে হয়। তাই বায়োপসি সাধারণত এমন হাসপাতাল, ক্যান্সার সেন্টার বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে করা উচিত, যেখানে প্রয়োজনীয় ধরনের বায়োপসি করার ব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য প্যাথলজি পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে।

বিশেষ করে ক্যান্সারের সন্দেহ থাকলে এমন প্রতিষ্ঠানে বায়োপসি করা ভালো, যেখানে নমুনা যথাযথভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে Immunohistochemistry (IHC), Biomarker বা Molecular Test করার সুবিধা রয়েছে। তাই আপনার বায়োপসির ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত হাসপাতাল বা সেন্টার নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।

বায়োপসির পরে কী করবেন?

বায়োপসির বিভিন্ন ধরন

বায়োপসির ধরন নির্ভর করে শরীরের কোন অংশে অস্বাভাবিকতা রয়েছে, সেটি কত বড় বা গভীরে রয়েছে, কোন রোগের সন্দেহ করা হচ্ছে এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য কতটুকু টিস্যু বা কোষের নমুনা প্রয়োজন—এসব বিষয়ের ওপর। তাই সবার জন্য একই ধরনের বায়োপসি করা হয় না।

১. নিডল বায়োপসি (Needle Biopsy)

বিশেষ সূঁচের সাহায্যে শরীরের অস্বাভাবিক অংশ বা টিউমার থেকে কোষ, তরল বা টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে স্থানীয় অবশ করার ওষুধ (Local Anesthesia) দেওয়া হয়। শরীরের গভীরে থাকা অস্বাভাবিক অংশ থেকে নমুনা নেওয়ার প্রয়োজন হলে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা CT স্ক্যানের সাহায্যে সূঁচটি সঠিক স্থানে পৌঁছানো হয়।

২. ইনসিশনাল বায়োপসি (Incisional Biopsy)

অস্বাভাবিক টিউমার বা অংশের সম্পূর্ণটা না তুলে তার একটি অংশ ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে নিয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। টিউমার বড় হলে, গভীরে থাকলে বা একবারে পুরোটা অপসারণ করা উপযুক্ত না হলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। সাধারণত স্থানীয় অবশ করার ওষুধ দিয়ে ছোট একটি কাটা তৈরি করে টিস্যুর নমুনা নেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সেলাই দেওয়া হতে পারে।

৩. ওয়েজ বায়োপসি (Wedge Biopsy)

অস্বাভাবিক টিস্যু বা ক্ষতের একটি অংশকে কীলক বা ত্রিভুজের মতো আকারে কেটে নিয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠানোকে Wedge Biopsy বলা হয়। এটি সাধারণত এমন ক্ষেত্রে করা হতে পারে যেখানে সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক অংশ অপসারণ না করে তার একটি প্রতিনিধিত্বমূলক অংশ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোন রোগীর জন্য এই পদ্ধতি উপযুক্ত হবে তা অস্বাভাবিক অংশের অবস্থান, আকার এবং রোগের সম্ভাব্য ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।

৪. এক্সসিশনাল বায়োপসি (Excisional Biopsy)

অস্বাভাবিক অংশ বা টিউমারটি সম্পূর্ণভাবে ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। প্রয়োজনে টিউমার বা গাঁটের চারপাশের সামান্য স্বাভাবিক টিস্যুও অপসারণ করা হতে পারে। ছোট এবং সহজে অপসারণযোগ্য কিছু টিউমার বা অস্বাভাবিক অংশের ক্ষেত্রে এটি একই সঙ্গে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যেও করা হতে পারে।

৫. এন্ডোস্কোপিক বায়োপসি (Endoscopic Biopsy)

এন্ডোস্কোপ হলো একটি সরু, আলো ও ক্যামেরাযুক্ত বিশেষ যন্ত্র। শরীরের স্বাভাবিক পথ দিয়ে এটি নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছানো হয় এবং এন্ডোস্কোপের ভেতর দিয়ে ছোট যন্ত্র ব্যবহার করে সন্দেহজনক অংশ থেকে টিস্যুর নমুনা নেওয়া হয়।

৬. ত্বকের বায়োপসি (Skin Biopsy)

ত্বকের অস্বাভাবিক তিল, গাঁট, দাগ, ঘা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণ জানতে ত্বকের ছোট একটি অংশ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। কোন পদ্ধতিতে নমুনা নেওয়া হবে তা ত্বকের অস্বাভাবিক অংশের ধরন ও গভীরতার ওপর নির্ভর করে।

৭. লিম্ফ নোড বায়োপসি (Lymph Node Biopsy)

শরীরের কোনো অংশে লিম্ফ নোড অস্বাভাবিকভাবে বড় হলে বা সেখানে ক্যান্সার থাকার সন্দেহ হলে লিম্ফ নোড থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হতে পারে। লিম্ফ নোডের অবস্থান এবং কী ধরনের তথ্য প্রয়োজন তার ওপর পদ্ধতি নির্ভর করে।

৮. বোন ম্যারো অ্যাসপিরেশন ও ট্রেফাইন বায়োপসি (Bone Marrow Aspiration & Trephine Biopsy)

লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, মাল্টিপল মায়েলোমা এবং অন্যান্য রক্ত ও অস্থিমজ্জার রোগ নির্ণয় বা মূল্যায়নের জন্য বোন ম্যারো পরীক্ষা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে অন্য অঙ্গের ক্যান্সার অস্থিমজ্জায় ছড়িয়েছে কি না, সেটিও এই পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।

অনেক ক্ষেত্রে বোন ম্যারো অ্যাসপিরেশন ও ট্রেফাইন বায়োপসি একই সময়ে করা হয়। কারণ দুটি পরীক্ষায় বোন ম্যারো সম্পর্কে পরস্পর পরিপূরক তথ্য পাওয়া যায়।

৯. ইমেজ-গাইডেড বায়োপসি (Image-guided Biopsy)

শরীরের গভীরে থাকা বা বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না এমন অস্বাভাবিক অংশ থেকে বায়োপসি নেওয়ার সময় আল্ট্রাসনোগ্রাম, CT স্ক্যান বা প্রয়োজন অনুযায়ী MRI-এর সাহায্যে অস্বাভাবিক অংশটির সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর সেই নির্দেশনা অনুসরণ করে সূঁচটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে টিস্যুর নমুনা নেওয়া হয়।

ইমেজ-গাইডেড বায়োপসি আলাদা কোনো নমুনা নেওয়ার পদ্ধতি নয়; এটি মূলত সূঁচের মাধ্যমে বায়োপসি সঠিক ও নিরাপদভাবে করার একটি পদ্ধতি। যেমন— আল্ট্রাসনোগ্রাম-গাইডেড কোর বায়োপসি, CT-গাইডেড ফুসফুসের বায়োপসি বা স্টেরিওট্যাকটিক স্তন বায়োপসি।

১০. ভ্যাকুয়াম-অ্যাসিস্টেড বায়োপসি (Vacuum-Assisted Biopsy)

বিশেষ একটি বায়োপসি সূঁচের সঙ্গে ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করে একই প্রবেশপথ দিয়ে একাধিক টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বিশেষ করে স্তনের কিছু অস্বাভাবিক অংশ পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কোন রোগীর জন্য এটি উপযুক্ত হবে তা অস্বাভাবিক অংশের ধরন এবং ইমেজিং পরীক্ষার ফলাফল দেখে চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।

কোন ধরনের বায়োপসি করা হবে তা নির্ধারণের সময় অস্বাভাবিক অংশটি কোথায় রয়েছে, কত বড় ও কতটা গভীরে রয়েছে, রোগের সম্ভাব্য ধরন, কতটুকু টিস্যু প্রয়োজন এবং রোগীর নিরাপত্তা—এসব বিষয় বিবেচনা করা হয়।

বায়োপসি রিপোর্ট পেতে কতদিন সময় লাগে?

বায়োপসি রিপোর্ট পেতে সাধারণত কয়েক কর্মদিবস থেকে প্রায় ১–২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সময়টি বায়োপসির ধরন, নমুনার আকার ও জটিলতা এবং কী ধরনের পরীক্ষা প্রয়োজন তার ওপর নির্ভর করে। অনেক সাধারণ needle biopsy বা ছোট tissue biopsy-এর প্রাথমিক histopathology report কয়েক কর্মদিবসের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে।

বড় বা জটিল biopsy, অতিরিক্ত pathology review অথবা Immunohistochemistry (IHC), biomarker বা molecular testing প্রয়োজন হলে সম্পূর্ণ রিপোর্ট পেতে আরও কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। কিছু বিশেষ পরীক্ষা অন্য laboratory-তে পাঠানোরও প্রয়োজন হতে পারে।

তাই বায়োপসি করার সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা pathology laboratory-এর কাছ থেকে সম্ভাব্য রিপোর্ট পাওয়ার সময় জেনে নেওয়া ভালো। কোনো পরীক্ষা pending থাকলে তার ফলাফল পাওয়ার পর সম্পূর্ণ pathology assessment করা হতে পারে।

বায়োপসি রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন?

বায়োপসি রিপোর্টে পরীক্ষাগারে সংগ্রহ করা টিস্যু বা কোষ পরীক্ষা করে কী পাওয়া গেছে, তা উল্লেখ থাকে। রিপোর্টের কিছু শব্দ রোগীদের কাছে কঠিন মনে হতে পারে। তাই রিপোর্টের চূড়ান্ত অর্থ বুঝতে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

বায়োপসি রিপোর্টে সাধারণত যা উল্লেখ থাকে

রিপোর্টে কী ধরনের ফলাফল আসতে পারে?

গুরুত্বপূর্ণ: শুধু একটি শব্দ বা একটি লাইনের ভিত্তিতে বায়োপসি রিপোর্টের অর্থ নির্ধারণ করা উচিত নয়। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা, বায়োপসি রিপোর্ট, ইমেজিং এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল একসঙ্গে বিবেচনা করে চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বায়োপসি রিপোর্টে ক্যান্সার ধরা পড়লে কী করবেন?

বায়োপসি রিপোর্টে ক্যান্সার ধরা পড়লে দেরি না করে একজন অনকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত রোগের ধরন, অবস্থান, গ্রেড, স্টেজ, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করে নেওয়া হয়।

পরবর্তী ধাপে যা করা হতে পারে

বায়োপসি কতটা নির্ভুল?

বায়োপসির ফলাফল যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে

গুরুত্বপূর্ণ: কখনও কখনও বায়োপসির নমুনা ছোট হওয়া বা অস্বাভাবিক অংশের সবটুকু নমুনায় না আসার কারণে রিপোর্টে সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বায়োপসি রিপোর্টের সঙ্গে ইমেজিং ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল মিলিয়ে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রয়োজনে পুনরায় বায়োপসি বা অতিরিক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

বায়োপসির সুবিধা

বায়োপসির সীমাবদ্ধতা

সব ক্ষেত্রে একবারের বায়োপসিতেই চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় সম্ভব নাও হতে পারে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পরীক্ষা বা পুনরায় বায়োপসি করার প্রয়োজন হতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

নিচের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

গুরুত্বপূর্ণ: বায়োপসির ধরন ও শরীরের কোন অংশ থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে তার ওপর স্বাভাবিক পরবর্তী উপসর্গ এবং সতর্কতার লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। তাই বায়োপসির পর আপনার চিকিৎসক বা হাসপাতাল যে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন, তা অনুসরণ করুন।

বায়োপসি সম্পর্কে রোগীদের প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

বায়োপসি মানেই কি অপারেশন?

না। বায়োপসি মানেই বড় কোনো অপারেশন নয়। অনেক বায়োপসি সূঁচের মাধ্যমে করা যায়, যেখানে শরীরে খুব ছোট একটি ছিদ্র করে টিস্যুর নমুনা নেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা CT স্ক্যানের সাহায্যে সূঁচটি সঠিক স্থানে পৌঁছানো হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে এন্ডোস্কোপ বা ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিস্যু সংগ্রহ করা হতে পারে। কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে তা টিউমারের অবস্থান, আকার এবং প্রয়োজনীয় টিস্যুর ওপর নির্ভর করে।

বায়োপসি কি ব্যথাদায়ক?

বায়োপসির সময় ব্যথা বা অস্বস্তি কতটা হবে তা বায়োপসির ধরন এবং শরীরের কোন অংশ থেকে নমুনা নেওয়া হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। অনেক বায়োপসিতে স্থানীয় অবশ করার ওষুধ (local anesthesia) ব্যবহার করা হয়। তাই প্রক্রিয়ার সময় সাধারণত ব্যথা লাগে না; তবে সূঁচের চাপ, টান বা সাময়িক অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

বায়োপসির পর নমুনা নেওয়ার স্থানে কিছু সময়ের জন্য হালকা ব্যথা, স্পর্শে অস্বস্তি বা সামান্য কালশিটে দাগ থাকতে পারে। সাধারণত এগুলো ধীরে ধীরে কমে যায়। কোন ধরনের বায়োপসি করা হবে তার ওপর নির্ভর করে ব্যথা ও সুস্থ হতে সময়ের পার্থক্য হতে পারে।

বায়োপসি করলে কি ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে?

সাধারণভাবে বায়োপসি করলে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে না। বায়োপসি-জনিত tumor seeding অত্যন্ত বিরল। ক্যান্সার নিশ্চিতভাবে নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বায়োপসির উপকার সাধারণত এই অত্যন্ত কম ঝুঁকির তুলনায় অনেক বেশি।

কোন ধরনের বায়োপসি করা হবে তা টিউমারের অবস্থান ও রোগের ধরন অনুযায়ী অভিজ্ঞ চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।

বায়োপসি ও Histopathology কি একই?

না, বায়োপসি ও Histopathology একই নয়। বায়োপসি হলো শরীরের নির্দিষ্ট স্থান থেকে টিস্যু বা কোষের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া। আর Histopathology হলো সংগ্রহ করা টিস্যু মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পরীক্ষা করে রোগ বা ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ের পদ্ধতি। অর্থাৎ, বায়োপসি হলো নমুনা সংগ্রহ; Histopathology হলো সেই টিস্যুর পরীক্ষার প্রক্রিয়া।

বায়োপসি থেকে নেওয়া টিস্যুকে প্রক্রিয়াজাত করে বিশেষভাবে প্রস্তুত করার পর pathologist মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে কোষ ও টিস্যুর গঠন পরীক্ষা করেন। এর মাধ্যমে টিউমার বা অস্বাভাবিক টিস্যু ক্যান্সারযুক্ত কি না, ক্যান্সারের ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী grade সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

Histopathology report-এর ফলাফলের ভিত্তিতে কিছু ক্ষেত্রে আরও নির্দিষ্ট তথ্যের জন্য Immunohistochemistry (IHC), biomarker testing বা molecular testing প্রয়োজন হতে পারে। এসব অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন রোগের ধরন ও প্রাথমিক pathology findings-এর ওপর নির্ভর করে।

বায়োপসি রিপোর্টের Slide ও Block কী?

বায়োপসি থেকে নেওয়া টিস্যু পরীক্ষার জন্য প্রক্রিয়াজাত করার পর সাধারণত glass slide এবং paraffin-embedded tissue block তৈরি করা হয়। Slide হলো প্রক্রিয়াজাত টিস্যুর একটি খুব পাতলা অংশ কাঁচের স্লাইডে রেখে বিশেষ রঙে (stain) প্রস্তুত করা নমুনা, যা pathologist মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। আর Block হলো paraffin-এর মধ্যে সংরক্ষিত টিস্যুর নমুনা, যেখান থেকে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে নতুন slide তৈরি করা যায়।

ভবিষ্যতে biopsy diagnosis পুনরায় যাচাই, second opinion, অতিরিক্ত Histopathology, IHC, biomarker বা molecular testing-এর প্রয়োজন হলে সংরক্ষিত slide বা tissue block গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কোনটি প্রয়োজন হবে তা পরীক্ষার ধরন ও চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।

একটি বায়োপসি দিয়ে কি টিউমারের উৎপত্তিস্থল বোঝা যায়?

অনেক ক্ষেত্রে বায়োপসি ও pathology পরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারের ধরন এবং সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। প্রয়োজনে Immunohistochemistry (IHC) এবং অন্যান্য বিশেষ পরীক্ষা টিউমারের origin বা tissue type নির্ণয়ে সহায়তা করতে পারে।

তবে সব ক্ষেত্রে শুধু একটি বায়োপসি দিয়েই উৎপত্তিস্থল নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তখন রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা, imaging এবং অন্যান্য pathology বা laboratory পরীক্ষার ফলাফলও বিবেচনা করা হয়।

বায়োপসি রিপোর্টে IHC (Immunohistochemistry) কী এবং কেন করা হয়?

IHC বা Immunohistochemistry হলো বায়োপসি থেকে পাওয়া টিস্যুতে নির্দিষ্ট প্রোটিন বা মার্কার শনাক্ত করার একটি বিশেষ পরীক্ষা। সাধারণ Histopathology পরীক্ষায় টিউমারের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পর কিছু ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় আরও নিশ্চিত করতে IHC করা হয়। বিশেষ করে টিউমারের ধরন বা উৎপত্তিস্থল নির্ণয় এবং কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে IHC-এর প্রয়োজন হতে পারে। সব বায়োপসিতে IHC করা হয় না; রোগের ধরন ও pathology findings অনুযায়ী pathologist বা চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

বায়োপসি রিপোর্টে Biomarker Test কী এবং কেন করা হয়?

Biomarker Test হলো টিউমারের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা জৈবিক পরিবর্তন শনাক্ত করার পরীক্ষা। কিছু ক্যান্সারে নির্দিষ্ট biomarker জানা গেলে রোগের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় এবং কোন ধরনের চিকিৎসা উপযুক্ত হতে পারে তা নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে। কোন biomarker পরীক্ষা প্রয়োজন হবে তা ক্যান্সারের ধরন, রোগের পর্যায় এবং প্রাথমিক pathology report-এর ফলাফলের ওপর নির্ভর করে। তাই সব রোগীর জন্য একই biomarker test করা হয় না।

বায়োপসির পর Molecular Test কী এবং কেন করা হয়?

Molecular Test হলো টিউমারের কোষ বা টিস্যুতে থাকা নির্দিষ্ট জেনেটিক বা molecular পরিবর্তন শনাক্ত করার বিশেষ পরীক্ষা। কিছু ক্যান্সারে এই পরীক্ষার মাধ্যমে এমন পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়, যা রোগের বৈশিষ্ট্য বোঝা এবং নির্দিষ্ট ধরনের targeted therapy বা অন্যান্য চিকিৎসা বেছে নিতে সহায়তা করতে পারে। Molecular Test সাধারণত সবার জন্য প্রয়োজন হয় না। ক্যান্সারের ধরন, pathology report, রোগের পর্যায় এবং চিকিৎসার পরিকল্পনা অনুযায়ী চিকিৎসক বা pathologist প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

বায়োপসি রিপোর্টের দ্বিতীয় মতামত (Second Opinion) নেওয়া যায় কি?

হ্যাঁ। প্রয়োজনে অন্য একজন অভিজ্ঞ pathologist-এর কাছে biopsy specimen পুনরায় পরীক্ষা করিয়ে second opinion নেওয়া যায়। বিশেষ করে diagnosis জটিল হলে, বিরল টিউমার হলে অথবা pathology report ও clinical বা imaging findings-এর মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে এটি উপকারী হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে আগের বায়োপসির glass slides এবং paraffin tissue block ব্যবহার করে দ্বিতীয় মতামত দেওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে আপনার চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট pathology laboratory-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

বায়োপসির টিস্যু কি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা হয়?

অনেক pathology laboratory বায়োপসির processed tissue, যেমন paraffin block ও stained slides, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংরক্ষণ করে। ভবিষ্যতে diagnosis review, অতিরিক্ত pathology পরীক্ষা বা second opinion-এর প্রয়োজন হলে এগুলো কাজে লাগতে পারে।

কতদিন এবং কীভাবে নমুনা সংরক্ষণ করা হবে তা সংশ্লিষ্ট laboratory-এর নীতি ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করে। প্রয়োজনে আপনার pathology laboratory-তে এ বিষয়ে জেনে নিতে পারেন।

বায়োপসি করার পর কি সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু হয়?

সবসময় নয়। বায়োপসি রিপোর্টে ক্যান্সার শনাক্ত হলে প্রথমে রোগের ধরন, histological features এবং প্রয়োজনীয় biomarker বা IHC-এর ফলাফল সম্পূর্ণ করা হতে পারে। এরপর রোগের বিস্তৃতি বা stage নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় imaging ও অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।

এরপর রোগের ধরন, stage, biomarker, রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার লক্ষ্য বিবেচনা করে উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। তাই বায়োপসি রিপোর্ট পাওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করার সঠিক সময় রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

শরীরে কোনো অস্বাভাবিক গাঁট, দীর্ঘদিনের ক্ষত বা ক্যান্সারের সন্দেহজনক পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে সময়মতো বায়োপসি করান এবং রিপোর্ট নিয়ে একজন অভিজ্ঞ অনকোলজিস্টের সঙ্গে আলোচনা করুন।

ডাঃ রুবিনা সুলতানার পরামর্শ

বায়োপসি রিপোর্টের ভিত্তিতে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রোগের ধরন ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিন। দ্রুত ও সঠিক রোগ নির্ণয় চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ।

টিউমার ও ক্যান্সার সম্পর্কে আরও জানুন

বায়োপসি ক্যান্সার নির্ণয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি। টিউমার, ক্যান্সারের লক্ষণ, স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয়, রেডিওথেরাপি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের রোগী নির্দেশিকাগুলো পড়তে পারেন।

জরায়ুমুখ ক্যান্সার

ব্রেস্ট ক্যান্সার

চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন

ডাঃ রুবিনা সুলতানার চেম্বারসমূহ

তথ্যসূত্র ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা নির্দেশিকা