National Institute of Cancer Research & Hospital (NICRH), Dhaka
অভিজ্ঞ ক্যান্সার ও টিউমার বিশেষজ্ঞ (রেডিয়েশন ও ক্লিনিক্যাল অনকোলজিস্ট)
টিউমার নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
- টিউমারের সন্দেহ হলে প্রথমেই অনকোলজিস্ট দেখানো উচিত
- সব টিউমারের জন্য সার্জারি প্রথম ধাপ নয়
- দেরি করলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা জটিল হতে পারে
শরীরের কোথাও গাঁট, ফোলা বা অস্বাভাবিক টিউমার ধরা পড়লে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন— কোন ডাক্তারের কাছে যাবো? সার্জন, মেডিসিন ডাক্তার, নাকি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ? সঠিক সময়ে সঠিক ডাক্তারের কাছে না গেলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেরি হতে পারে।
টিউমার কী?
টিউমার হলো শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া গাঁট বা ফোলা। টিউমার সাধারণত দুই ধরনের হয়— বিনাইন (ক্ষতিকর নয়) এবং ম্যালিগন্যান্ট (ক্যান্সার)।
টিউমার হলে প্রথমে কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
টিউমারের সন্দেহ হলে প্রথমেই একজন অনকোলজিস্ট (ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ) এর কাছে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও সঠিক সিদ্ধান্ত। অনকোলজিস্ট প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা নির্ধারণ করে চিকিৎসার পরিকল্পনা করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ-এর টিউমার সংক্রান্ত পেইজটি ভিজিট করুন।
ব্রেস্ট টিউমার হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?
ব্রেস্ট টিউমারের ক্ষেত্রে প্রথমেই একজন অনকোলজিস্ট বা রেডিয়েশন অনকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে তিনি ব্রেস্ট সার্জন বা অন্যান্য বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করতে পারেন।
সরাসরি সার্জনের কাছে গেলে কি সমস্যা হতে পারে?
অনেক রোগী সরাসরি সার্জনের কাছে চলে যান। কিন্তু সব টিউমারের ক্ষেত্রে সার্জারি প্রথম ধাপ নয়।
- কিছু টিউমারে আগে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি প্রয়োজন হয়
- ভুল সময়ে অপারেশন করলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যেতে পারে
- অনকোলজিস্ট না দেখালে রোগের স্টেজ নির্ধারণে ভুল হতে পারে
কোন ক্ষেত্রে অবশ্যই অনকোলজিস্ট দেখাবেন?
- স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয়, ফুসফুস বা গলায় টিউমার
- দ্রুত বড় হচ্ছে এমন গাঁট
- ব্যথাহীন কিন্তু শক্ত টিউমার
- ওজন কমে যাওয়া, রক্তস্বল্পতা বা দীর্ঘদিনের ব্যথা
- বায়োপসিতে ক্যান্সারের সন্দেহ
অনকোলজিস্ট প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা নির্ধারণ করেন এবং প্রয়োজনে ব্রেস্ট সার্জন বা অন্যান্য বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করতে পারেন।
টিউমার হলে কী কী পরীক্ষা লাগতে পারে?
- আল্ট্রাসাউন্ড / CT / MRI
- বায়োপসি
- রক্ত পরীক্ষা
- প্যাথলজি ও স্টেজিং রিপোর্ট
সার্জারি ছাড়া কি টিউমার চিকিৎসা সম্ভব?
হ্যাঁ। অনেক ক্ষেত্রে টিউমারের চিকিৎসা সার্জারি ছাড়াও করা সম্ভব।
- কেমোথেরাপি
- রেডিওথেরাপি
- ব্র্যাকিথেরাপি
- হরমোন বা টার্গেটেড থেরাপি
রোগের ধরণ, স্টেজ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসার ধরন নির্ধারণ করা হয়।
দেরি করলে কী হতে পারে?
- রোগ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে
- চিকিৎসা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হয়ে যেতে পারে
- চিকিৎসার সাফল্যের হার কমে যেতে পারে
টিউমারের চিকিৎসায় কি কি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
টিউমারের ধরণ ও স্টেজ অনুযায়ী রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি, ব্র্যাকিথেরাপি, প্রয়োজনে সার্জারি এবং সাপোর্টিভ কেয়ার ব্যবহার করা হয়।
কোন টিউমারে কোন চিকিৎসা উপযোগী?
টিউমারের ধরণ, স্টেজ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি বা ব্র্যাকিথেরাপি নির্ধারণ করা হয়।
টিউমার চিকিৎসা কতদিন চলতে পারে?
রেডিয়েশন থেরাপি সাধারণত ৩–৬ সপ্তাহ চলে, আর কেমোথেরাপি কয়েক মাস ধরে নির্দিষ্ট চক্রে দেওয়া হতে পারে।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমার কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?
অনেক ক্ষেত্রে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শুরুতেই সনাক্ত হলে এবং সঠিক চিকিৎসা পেলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।
টিউমার চিকিৎসার পরে পুনরায় ফিরে আসতে পারে কি?
কিছু ক্ষেত্রে টিউমার পুনরায় ফিরে আসতে পারে। তাই চিকিৎসার পর নিয়মিত ফলো-আপ ও পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেনাইন টিউমারের চিকিৎসা কি জরুরি?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেনাইন টিউমার বিপদজনক নয়। তবে কিছু পরিস্থিতিতে নিয়মিত ফলো-আপ বা চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
👉 টিউমার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তথ্য দেখুন
👉 চেম্বার ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট তথ্য