National Institute of Cancer Research & Hospital (NICRH), Dhaka
অভিজ্ঞ ক্যান্সার ও টিউমার বিশেষজ্ঞ
এই নিবন্ধটি ডাঃ রুবিনা সুলতানা কর্তৃক আন্তর্জাতিক গাইডলাইন (NCCN, ASCO, ESMO)-অনুসরণে প্রণীত।
টিউমার হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন? টিউমার সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
এই FAQ পেইজে টিউমার সম্পর্কে রোগীদের প্রায়ই করা প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত, সহজ ও সহজবোধ্য উত্তর দেওয়া হয়েছে। এখানে টিউমার কী, সব টিউমার ক্যান্সার কি না, বিভিন্ন ধরনের টিউমারের জন্য কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন, কী কী পরীক্ষা করা হয় এবং আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
- সব টিউমার ক্যান্সার নয়, তবে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায় না।
- টিউমারের অবস্থান অনুযায়ী সঠিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
- দ্রুত বড় হওয়া বা ব্যথাহীন গাঁট কখনো অবহেলা করবেন না।
- প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা বেশি।
শরীরের কোথাও গাঁট, চাকা, ফোলা বা অস্বাভাবিক টিউমার ধরা পড়লে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন—কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন? সার্জন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ENT বিশেষজ্ঞ, গাইনোকোলজিস্ট, ইউরোলজিস্ট নাকি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ? টিউমারের অবস্থান ও প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে সঠিক বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে সঠিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিলে রোগ নির্ণয় বিলম্বিত হতে পারে, ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যেতে পারে।
টিউমার কী?
টিউমার হলো শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া গাঁট, ফোলা বা অস্বাভাবিক টিস্যু। টিউমার সাধারণত দুই ধরনের হয়— বিনাইন (ক্ষতিকর নয়) এবং ম্যালিগন্যান্ট (ক্যান্সার)। সব টিউমার ক্যান্সার নয়, তবে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
টিউমার কি সবসময় ব্যথা করে?
না। অনেক টিউমার শুরুতে ব্যথাহীন হতে পারে। বিশেষ করে শক্ত ও ধীরে ধীরে বড় হওয়া গাঁট অনেক সময় প্রথমদিকে ব্যথা সৃষ্টি করে না। তাই ব্যথা না থাকলেও দীর্ঘদিনের গাঁট বা ফোলা অবহেলা করা উচিত নয়।
টিউমার হলে প্রথমে কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
টিউমারের সন্দেহ হলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ অনকোলজিস্ট (ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ)-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত। টিউমারের অবস্থান, উপসর্গ এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে সার্জন, ENT বিশেষজ্ঞ, গাইনোকোলজিস্ট, ইউরোলজিস্ট, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা অন্যান্য বিশেষজ্ঞ প্রাথমিক মূল্যায়নে যুক্ত হতে পারেন। ক্যান্সারের সন্দেহ বা নিশ্চিত রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অনকোলজিস্ট রোগের স্টেজ নির্ধারণ করে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসার পরিকল্পনা করেন। অনেক ক্ষেত্রে সর্বোত্তম চিকিৎসার জন্য Multidisciplinary Team (MDT)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সমন্বিতভাবে রোগীর চিকিৎসা পরিচালনা করেন।
অভিজ্ঞ ক্যান্সার ও টিউমার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে এখানে ক্লিক করুন।
শরীরের বিভিন্ন স্থানে টিউমার হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?
টিউমার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হতে পারে এবং সব টিউমারের চিকিৎসা একই রকম নয়। টিউমারের অবস্থান, ধরন, উপসর্গ এবং এটি বিনাইন (Benign) নাকি ম্যালিগন্যান্ট (Malignant) তার ওপর নির্ভর করে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হবে। অনেক ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য সার্জন, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট, মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং ক্লিনিক্যাল ও রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট সমন্বিতভাবে (Multidisciplinary Team বা MDT) চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন।
ব্রেস্টে টিউমার হলে
ব্রেস্টে গাঁট, ফোলা বা টিউমারের সন্দেহ হলে দ্রুত একজন ব্রেস্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ বা অনকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম, আল্ট্রাসাউন্ড ও বায়োপসি করে রোগ নির্ণয় করা হয় এবং ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।
গলায় টিউমার হলে
গলায় টিউমার, দীর্ঘদিনের ফোলা, গিলতে সমস্যা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন বা ব্যথাহীন গাঁট থাকলে একজন ENT বিশেষজ্ঞ এবং ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ উভয়ের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। রোগ নির্ণয়ের জন্য এন্ডোস্কোপি, CT Scan, MRI বা বায়োপসি করা হতে পারে।
পেটে টিউমার হলে
পেটে অস্বাভাবিক গাঁট, দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা রক্তপাত হলে দ্রুত অভিজ্ঞ ক্যান্সার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসাউন্ড, CT Scan, এন্ডোস্কোপি বা বায়োপসি করা হয়।
জরায়ুতে টিউমার হলে
জরায়ুতে টিউমার, অস্বাভাবিক রক্তপাত, দীর্ঘদিনের তলপেট ব্যথা বা মেনোপজের পরে রক্তপাত হলে দ্রুত একজন জরায়ু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রোগের ধরন অনুযায়ী গাইনোকোলজিস্ট, সার্জন ও অনকোলজিস্ট যৌথভাবে চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে পারেন।
ফুসফুসে টিউমার হলে
দীর্ঘদিনের কাশি, রক্তসহ কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকের ব্যথার সঙ্গে ফুসফুসে টিউমারের সন্দেহ হলে দ্রুত ফুসফুস ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী CT Scan, Bronchoscopy ও Biopsy করা হতে পারে।
মাথায় টিউমার হলে
দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা, বমি, খিঁচুনি, ঝাপসা দেখা, ভারসাম্যহীনতা বা শরীরের কোনো অংশ দুর্বল হয়ে গেলে দ্রুত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী নিউরোসার্জন ও অনকোলজিস্ট একসাথে চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে পারেন।
হাতে বা পায়ে টিউমার হলে
হাতে বা পায়ে অস্বাভাবিক গাঁট, দ্রুত বড় হওয়া ফোলা বা দীর্ঘদিনের ব্যথা থাকলে দ্রুত অনকোলজিস্ট দেখানো উচিত। কিছু ক্ষেত্রে Soft Tissue Tumor বা Sarcoma-এর মূল্যায়নের জন্য অর্থোপেডিক অনকোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শও প্রয়োজন হতে পারে।
ঘাড়ে টিউমার হলে
ঘাড়ে দীর্ঘদিনের ফোলা, শক্ত গাঁট বা ব্যথাহীন টিউমার থাকলে দ্রুত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ধূমপান, মুখে দীর্ঘদিনের ঘা বা গিলতে সমস্যা থাকলে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডিম্বাশয়ে টিউমার হলে
পেট ফোলা, তলপেটে চাপ অনুভব, অস্বাভাবিক ব্যথা বা মাসিকের পরিবর্তনের মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু ক্ষেত্রে গাইনোকোলজিক ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ-এর মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
মুখ, জিহ্বা বা মুখগহ্বরে টিউমার হলে
মুখে দীর্ঘদিনের ঘা, জিহ্বায় গাঁট, মুখের ভেতরে সাদা বা লাল দাগ, চিবাতে বা গিলতে অসুবিধা হলে দ্রুত ENT বিশেষজ্ঞ, ওরাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন অথবা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
খাদ্যনালীতে টিউমার হলে
গিলতে কষ্ট, খাবার আটকে যাওয়া, বুকের মাঝখানে ব্যথা বা অকারণে ওজন কমে গেলে দ্রুত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও অনকোলজিস্টের মূল্যায়ন প্রয়োজন। রোগ নির্ণয়ের জন্য এন্ডোস্কোপি ও বায়োপসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লিভার বা অগ্ন্যাশয়ে টিউমার হলে
জন্ডিস, তীব্র পেটব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা লিভারে গাঁট ধরা পড়লে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট, হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন এবং ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কিডনি বা মূত্রথলিতে টিউমার হলে
প্রস্রাবে রক্ত, কোমরে ব্যথা, প্রস্রাবে বাধা বা কিডনিতে গাঁট ধরা পড়লে দ্রুত ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ক্যান্সারের সন্দেহ হলে অনকোলজিস্ট চিকিৎসা পরিকল্পনায় যুক্ত হন।
প্রোস্টেটে টিউমার হলে
ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে বাধা, প্রস্রাবে রক্ত অথবা PSA বৃদ্ধি পেলে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রোস্টেট ক্যান্সারের সন্দেহ হলে অনকোলজিস্ট রোগের স্টেজ অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন।
থাইরয়েডে টিউমার হলে
গলার সামনে গাঁট, গিলতে সমস্যা বা কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হলে এন্ডোক্রাইন সার্জন, ENT বিশেষজ্ঞ অথবা অনকোলজিস্টের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। রোগ নির্ণয়ের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড ও FNAC করা হতে পারে।
ত্বকে টিউমার হলে
ত্বকে নতুন গাঁট, দীর্ঘদিনের ক্ষত, তিলের রঙ বা আকার পরিবর্তন অথবা সহজে না শুকানো ঘা থাকলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ (Dermatologist)-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত। ক্যান্সারের সন্দেহ হলে অনকোলজিস্ট ও প্রয়োজনে সার্জনের মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়।
রক্তের ক্যান্সার বা লিম্ফ নোড ফুলে গেলে
ঘন ঘন জ্বর, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, রক্তস্বল্পতা, সহজে রক্তপাত, শরীরে নীল দাগ অথবা ঘাড়, বগল বা কুঁচকিতে লিম্ফ নোড ফুলে গেলে দ্রুত একজন হেমাটোলজিস্ট বা হেমাটো-অনকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, Bone Marrow Examination, Flow Cytometry এবং অন্যান্য বিশেষ পরীক্ষা করা হয়।
শিশুদের টিউমার হলে
শিশুর শরীরে অস্বাভাবিক গাঁট, পেট ফোলা, চোখ ফুলে যাওয়া, দীর্ঘদিনের জ্বর, হাড়ে ব্যথা বা অস্বাভাবিক রক্তপাত থাকলে দ্রুত একজন পেডিয়াট্রিক অনকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শরীরের যেকোনো স্থানে দ্রুত বড় হওয়া গাঁট হলে
শরীরের যেকোনো অংশে দ্রুত বড় হওয়া, শক্ত, ব্যথাহীন বা দীর্ঘদিন ধরে থাকা গাঁট কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। নিজে থেকে ওষুধ সেবন বা সরাসরি অপারেশনের সিদ্ধান্ত না নিয়ে দ্রুত একজন অনকোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ইমেজিং, বায়োপসি ও অন্যান্য পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। রোগ নির্ণয়ের পর প্রয়োজন অনুযায়ী সার্জন, মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল ও রেডিয়েশন অনকোলজিস্টসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে সর্বোত্তম চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।
সরাসরি সার্জনের কাছে গেলে কি সমস্যা হতে পারে?
অনেক রোগী সরাসরি সার্জনের কাছে চলে যান। কিন্তু সব টিউমারের ক্ষেত্রে সার্জারি প্রথম ধাপ নয়।
- কিছু টিউমারে আগে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি প্রয়োজন হয়
- ভুল সময়ে অপারেশন করলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যেতে পারে
- অনকোলজিস্ট না দেখালে রোগের স্টেজ নির্ধারণে ভুল হতে পারে
কোন ক্ষেত্রে অবশ্যই অনকোলজিস্ট দেখাবেন?
- বায়োপসিতে ক্যান্সার ধরা পড়লে বা ক্যান্সারের সন্দেহ থাকলে
- দ্রুত বড় হওয়া বা ব্যথাহীন শক্ত গাঁট থাকলে
- ব্রেস্ট, ফুসফুস, জরায়ু, ডিম্বাশয়, প্রোস্টেট বা মাথায় টিউমারের সন্দেহ হলে
- রক্তের ক্যান্সার বা লিম্ফ নোড অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে
- অপারেশন, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা অন্যান্য ক্যান্সার চিকিৎসার পরিকল্পনা প্রয়োজন হলে
অনকোলজিস্ট প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা নির্ধারণ করেন এবং প্রয়োজনে ব্রেস্ট সার্জন বা অন্যান্য বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করতে পারেন।
টিউমারের কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়?
- দ্রুত বড় হওয়া গাঁট বা ফোলা
- ব্যথাহীন কিন্তু শক্ত টিউমার
- অকারণে ওজন কমে যাওয়া
- দীর্ঘদিনের কাশি বা রক্তসহ কাশি
- অস্বাভাবিক রক্তপাত
- দীর্ঘদিনের গিলতে সমস্যা
- দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা বা বমি
এই ধরনের লক্ষণ থাকলে দ্রুত একজন অনকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
টিউমার হলে কী কী পরীক্ষা লাগতে পারে?
টিউমারের অবস্থান, আকার, উপসর্গ এবং ক্যান্সারের সন্দেহের মাত্রার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরামর্শ দিতে পারেন। সব রোগীর ক্ষেত্রে সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।
- আল্ট্রাসাউন্ড (Ultrasound)
- CT Scan
- MRI
- PET-CT (নির্বাচিত ক্ষেত্রে)
- এন্ডোস্কোপি বা কোলোনোস্কোপি (প্রয়োজনে)
- বায়োপসি (Biopsy)
- রক্ত পরীক্ষা
- প্যাথলজি রিপোর্ট ও প্রয়োজন অনুযায়ী স্টেজিং পরীক্ষা
সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য অনেক ক্ষেত্রে একাধিক পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে বায়োপসি ও প্যাথলজি রিপোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় টিউমারটি বিনাইন (Benign) নাকি ম্যালিগন্যান্ট (Malignant)।
সার্জারি ছাড়া কি টিউমার চিকিৎসা সম্ভব?
হ্যাঁ। অনেক ক্ষেত্রে টিউমারের চিকিৎসা সার্জারি ছাড়াও সফলভাবে করা সম্ভব। টিউমারের ধরন, অবস্থান, স্টেজ এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন করেন।
- কেমোথেরাপি (Chemotherapy)
- রেডিওথেরাপি (Radiotherapy)
- ব্র্যাকিথেরাপি (Brachytherapy)
- ইমিউনোথেরাপি (Immunotherapy)
- টার্গেটেড থেরাপি (Targeted Therapy)
- হরমোন থেরাপি (Hormone Therapy) — নির্বাচিত ক্ষেত্রে
কিছু ক্যান্সারে প্রথমেই সার্জারির পরিবর্তে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা অন্যান্য ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি সমন্বিতভাবে (Multimodality Treatment) ব্যবহার করা হয়। তাই কোন রোগীর জন্য কোন চিকিৎসা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগের ধরন ও স্টেজ অনুযায়ী নির্ধারণ করেন।
দেরি করলে কী হতে পারে?
- রোগ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে
- চিকিৎসা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হয়ে যেতে পারে
- চিকিৎসার সাফল্যের হার কমে যেতে পারে
টিউমারের চিকিৎসায় কি কি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
টিউমারের ধরণ ও স্টেজ অনুযায়ী রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি, ব্র্যাকিথেরাপি, প্রয়োজনে সার্জারি এবং সাপোর্টিভ কেয়ার ব্যবহার করা হয়।
কোন টিউমারে কোন চিকিৎসা উপযোগী?
টিউমারের ধরণ, স্টেজ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি বা ব্র্যাকিথেরাপি নির্ধারণ করা হয়।
টিউমার চিকিৎসা কতদিন চলতে পারে?
রেডিয়েশন থেরাপি সাধারণত ৩–৬ সপ্তাহ চলে, আর কেমোথেরাপি কয়েক মাস ধরে নির্দিষ্ট চক্রে দেওয়া হতে পারে।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমার কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?
অনেক ক্ষেত্রে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শুরুতেই সনাক্ত হলে এবং সঠিক চিকিৎসা পেলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।
টিউমার চিকিৎসার পরে পুনরায় ফিরে আসতে পারে কি?
কিছু ক্ষেত্রে টিউমার পুনরায় ফিরে আসতে পারে। তাই চিকিৎসার পর নিয়মিত ফলো-আপ ও পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেনাইন টিউমারের চিকিৎসা কি জরুরি?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেনাইন টিউমার বিপদজনক নয়। তবে কিছু পরিস্থিতিতে নিয়মিত ফলো-আপ বা চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
যে কোনো সন্দেহজনক লক্ষণ থাকলে দেরি না করে ক্যান্সার ও টিউমার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে সফলতার হার অনেক বেশি। সব ধরনের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ জানতে এখানে ক্লিক করুন।