National Institute of Cancer Research & Hospital (NICRH), Dhaka
অভিজ্ঞ ব্রেস্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ
এই নিবন্ধটি ডাঃ রুবিনা সুলতানা কর্তৃক আন্তর্জাতিক গাইডলাইন (NCCN, ASCO, ESMO)-অনুসরণে প্রণীত।
স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
- স্তনে নতুন গাঁট বা শক্ত অংশ স্তন ক্যান্সারের একটি সাধারণ লক্ষণ হতে পারে
- সব গাঁট বা চাকা ক্যান্সার নয়, তবে নতুন গাঁট হলে অবশ্যই পরীক্ষা করা জরুরি
- ম্যামোগ্রাম ও বায়োপসি স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
- প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা অনেক বেশি সফল হয়
স্তনে গাঁট বা চাকা, ব্যথা অথবা কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এই পেইজে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর সহজ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
স্তন ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ কী?
স্তন ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে স্তনে নতুন গাঁট বা শক্ত অংশ (চাকা), স্তনের আকার পরিবর্তন, নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, নিপল থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া এবং বগলের নিচে গাঁট হওয়া। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথা নাও থাকতে পারে, তাই বিস্তারিত জানতে দেখুন স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ এবং যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত একজন স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্তনে গাঁট (চাকা) হলে কি সবসময় ক্যান্সার হয়?
না। স্তনে গাঁট বা চাকা হলেই সবসময় ক্যান্সার হয় না। অনেক ক্ষেত্রে গাঁটের কারণ হতে পারে ফাইব্রোএডেনোমা (গোল বা ডিম্বাকার চাকা, স্পর্শ করলে নরম/রাবারের মতো লাগে, সহজে নড়াচড়া করে, সাধারণত ব্যথাহীন), ব্রেস্ট সিস্ট বা হরমোনজনিত পরিবর্তন। তবে নতুন গাঁট, দ্রুত বড় হওয়া গাঁট বা শক্ত ও অনড় গাঁট হলে অবশ্যই পরীক্ষা করা উচিত যাতে ক্যান্সারের সম্ভাবনা দ্রুত নির্ণয় করা যায়। বিস্তারিত জানতে দেখুন স্তনে গাঁট মানেই কি ক্যান্সার।
স্তনে ব্যথা কি স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ?
স্তনে ব্যথা সাধারণত হরমোনজনিত পরিবর্তন বা অন্যান্য বেনাইন সমস্যার কারণে হয় এবং এটি ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ নয়। তবে ব্যথার সাথে গাঁট বা চাকা, ত্বকের পরিবর্তন বা নিপল থেকে রক্ত বের হওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা উচিত।
ম্যামোগ্রাফি কী এবং কখন করা উচিত?
ম্যামোগ্রাফি হলো স্তনের একটি বিশেষ এক্স-রে পরীক্ষা, যা প্রাথমিক পর্যায়ে খুব ছোট টিউমার বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করতে সাহায্য করে। সাধারণ ঝুঁকির ক্ষেত্রে ৪০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত স্ক্রিনিং (প্রতি ১–২ বছর অন্তর) করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের ক্ষেত্রে আরও আগে স্ক্রিনিং শুরু করা প্রয়োজন হতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং (ম্যামোগ্রাফি)।
স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?
স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা টিউমারের ধরন, স্টেজ এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। সাধারণ চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপি। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি একসাথে ব্যবহার করা হয়।
👉 বিস্তারিত জানতে দেখুন স্তন ক্যান্সারের স্টেজ অনুযায়ী চিকিৎসা
চিকিৎসার অংশ হিসেবে কেমোথেরাপি প্রয়োজন হলে অনেক রোগীর মনে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ থাকে, যা সঠিক গাইডলাইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
কারা স্তন ক্যান্সারের বেশি ঝুঁকিতে থাকে?
কিছু ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যেমন:
- পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে
- দীর্ঘদিন হরমোন থেরাপি নিলে
- স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন থাকলে
তবে ঝুঁকি না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার হতে পারে, তাই নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ।
স্তন ক্যান্সার কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?
অনেক ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া হলে সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।
কখন স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন?
যদি স্তনে নতুন গাঁট বা চাকা অনুভব হয়, নিপল থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল বের হয়, স্তনের ত্বকে গর্ত বা ডিম্পল দেখা যায় অথবা বগলের নিচে গাঁট হয়, তাহলে দ্রুত একজন স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্তন ক্যান্সারের কোন স্টেজ বেশি বিপজ্জনক?
স্টেজ যত বেশি, তত জটিল। বিস্তারিত জানতে দেখুন স্টেজ অনুযায়ী চিকিৎসা।
স্তন ক্যান্সার কি প্রতিরোধ করা সম্ভব?
সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সবসময় সম্ভব নয়, তবে কিছু ঝুঁকি কমানো যায়। নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
👉 ঢাকার অন্যতম স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাঃ রুবিনা সুলতানা
👉 চেম্বার ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট তথ্য