National Institute of Cancer Research & Hospital (NICRH), Dhaka
অভিজ্ঞ স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (রেডিয়েশন ও ক্লিনিক্যাল অনকোলজিস্ট)
স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
- স্তনে নতুন গাঁট বা শক্ত অংশ স্তন ক্যান্সারের একটি সাধারণ লক্ষণ হতে পারে
- সব গাঁট ক্যান্সার নয়, তবে নতুন গাঁট হলে অবশ্যই পরীক্ষা করা জরুরি
- ম্যামোগ্রাম ও বায়োপসি স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
- প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা অনেক বেশি সফল হয়
স্তনে গাঁট, ব্যথা বা কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এই পেইজে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর সহজ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
স্তন ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ কী?
স্তন ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে স্তনে নতুন গাঁট বা শক্ত অংশ, স্তনের আকার পরিবর্তন, নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, নিপল থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া এবং বগলের নিচে গাঁট হওয়া। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথা নাও থাকতে পারে, তাই স্তনে যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত একজন স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্তনে গাঁট হলে কি সবসময় ক্যান্সার হয়?
না। স্তনে গাঁট হলেই সবসময় ক্যান্সার হয় না। অনেক ক্ষেত্রে গাঁটের কারণ হতে পারে ফাইব্রোএডেনোমা, ব্রেস্ট সিস্ট বা হরমোনজনিত পরিবর্তন। তবে নতুন গাঁট, দ্রুত বড় হওয়া গাঁট বা শক্ত ও অনড় গাঁট হলে অবশ্যই পরীক্ষা করা উচিত যাতে ক্যান্সারের সম্ভাবনা দ্রুত নির্ণয় করা যায়।
স্তনে ব্যথা কি স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ?
স্তনে ব্যথা সাধারণত হরমোনজনিত পরিবর্তন বা অন্যান্য বেনাইন সমস্যার কারণে হয় এবং এটি ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ নয়। তবে ব্যথার সাথে গাঁট, ত্বকের পরিবর্তন বা নিপল থেকে রক্ত বের হওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা উচিত।
ম্যামোগ্রাম কী এবং কখন করা উচিত?
ম্যামোগ্রাম হলো স্তনের একটি বিশেষ এক্স-রে পরীক্ষা যা প্রাথমিক পর্যায়ে খুব ছোট টিউমার বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করতে সাহায্য করে। সাধারণভাবে ৪০ বছরের পর নিয়মিত স্ক্রিনিং ম্যামোগ্রাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?
স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা টিউমারের ধরন, স্টেজ এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। সাধারণ চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপি। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি একসাথে ব্যবহার করা হয়।
স্তনের গাঁট ক্যান্সার কিনা কীভাবে বুঝবেন?
স্তনের গাঁট ক্যান্সার কিনা তা নিশ্চিতভাবে বোঝার জন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সাধারণত ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট পরীক্ষা, ম্যামোগ্রাম এবং ব্রেস্ট আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। প্রয়োজনে বায়োপসি করে টিস্যু পরীক্ষা করা হয়, যার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা যায় গাঁটটি ক্যান্সার কিনা।
কারা স্তন ক্যান্সারের বেশি ঝুঁকিতে থাকে?
কিছু ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যেমন:
- পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে
- দীর্ঘদিন হরমোন থেরাপি নিলে
- স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন থাকলে
তবে ঝুঁকি না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার হতে পারে, তাই নিয়মিত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
স্তন ক্যান্সার কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?
অনেক ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া হলে সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে অনেক রোগী দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। তাই দ্রুত শনাক্ত করা এবং চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কখন স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন?
যদি স্তনে নতুন গাঁট অনুভব হয়, নিপল থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল বের হয়, স্তনের ত্বকে গর্ত বা ডিম্পল দেখা যায় অথবা বগলের নিচে গাঁট হয়, তাহলে দ্রুত একজন স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
👉 ঢাকার সেরা স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ সম্পর্কে বিস্তারিত
👉 চেম্বার ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট তথ্য