National Institute of Cancer Research & Hospital (NICRH), Dhaka
অভিজ্ঞ জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ
এই নিবন্ধটি ডাঃ রুবিনা সুলতানা কর্তৃক আন্তর্জাতিক গাইডলাইন (NCCN, ASCO, ESMO)-অনুসরণে প্রণীত।
জরায়ুমুখ ক্যান্সারের লক্ষণ | জরায়ু ক্যান্সারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত
- অস্বাভাবিক রক্তপাত জরায়ুমুখ ক্যান্সারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত
- প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগীর কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে
- নিয়মিত Pap smear, HPV test ও VIA screening রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে
জরায়ুমুখ ক্যান্সার (Cervical Cancer) বা অনেকের ভাষায় জরায়ু ক্যান্সার অনেক সময় ধীরে ধীরে এবং নীরবে শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগীর কোনো লক্ষণই থাকে না। তাই লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ক্যান্সার সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব এবং রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ
- সহবাসের পর রক্তপাত
- মাসিকের বাইরে অস্বাভাবিক রক্তপাত
- মেনোপজের পর রক্তপাত
- দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্তমিশ্রিত স্রাব
- স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী সাদা স্রাব
সহবাসের পর রক্তপাত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সহবাসের পর রক্তপাত জরায়ুমুখ ক্যান্সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে। তবে সব রক্তপাতই ক্যান্সারের কারণে হয় না। সংক্রমণ, হরমোনজনিত সমস্যা বা অন্যান্য স্ত্রীরোগের কারণেও এমন হতে পারে। তবুও এ ধরনের সমস্যা বারবার হলে দ্রুত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
মেনোপজের পর রক্তপাত কি বিপজ্জনক?
মেনোপজের পর যেকোনো রক্তপাত অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি জরায়ুমুখ ক্যান্সার, জরায়ুর অন্যান্য রোগ বা হরমোনজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অগ্রসর পর্যায়ের লক্ষণ
- তলপেট বা পেলভিক ব্যথা
- সহবাসের সময় ব্যথা
- ওজন কমে যাওয়া ও দুর্বলতা
- মূত্র বা পায়খানার সমস্যা
- পায়ে ফোলা বা কোমর ব্যথা
প্রাথমিক ও অগ্রসর লক্ষণের পার্থক্য
| প্রাথমিক লক্ষণ | অগ্রসর লক্ষণ |
|---|---|
| সহবাসের পর রক্তপাত | তীব্র পেলভিক ব্যথা |
| অস্বাভাবিক বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব | মূত্র বা পায়খানার সমস্যা |
| হালকা অনিয়মিত রক্তপাত | ওজন কমে যাওয়া ও দুর্বলতা |
| অনেক সময় কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে | পায়ে ফোলা বা কোমর ব্যথা |
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
- বারবার অস্বাভাবিক যোনি রক্তপাত হলে
- দীর্ঘদিন দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক স্রাব থাকলে
- সহবাসের পর রক্তপাত হলে
- মেনোপজের পর রক্তপাত হলে
- ৩০ বছর বা তার বেশি বয়স এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং না করে থাকলে
লক্ষণ না থাকলেও কি স্ক্রিনিং প্রয়োজন?
হ্যাঁ। জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। এই কারণে নিয়মিত Pap smear, HPV test ও VIA screening অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার হওয়ার আগের পরিবর্তনও শনাক্ত করা সম্ভব।
ঝুঁকির কারণ
- Human Papillomavirus (HPV) সংক্রমণ
- কম বয়সে বিয়ে
- একাধিক যৌন সঙ্গী
- ধূমপান
- দীর্ঘদিন স্ক্রিনিং না করা
- দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
রেডিওথেরাপি নিয়ে কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
চিকিৎসার সময় অনেক রোগীর রেডিওথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ থাকে, তবে আধুনিক চিকিৎসায় অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
যে কোনো অস্বাভাবিক রক্তপাত, স্রাব বা দীর্ঘদিনের পেলভিক ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ জরায়ু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সব ধরনের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ জানতে এখানে ক্লিক করুন।
👉 ঢাকার অন্যতম জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাঃ রুবিনা সুলতানা